মঙ্গলবার, ৩০ Jun ২০২৬, ১০:১৪ পূর্বাহ্ন
বিশ্বজিৎ দত্ত: [২] বাংলাদেশের ম্যানুফ্যাকচারিংখাতের ৫০ শতাংশ মালিক ও ম্যানেজারের কোন ডিগ্রী নেই। তারা যদি ডিগ্রী প্রাপ্ত হন তবে দেশের উৎপাদন বাড়বে ১০ শতাংশ। সম্প্রতি বিশ্বব্যাংকের এক গবেষণায় এ তথ্য দেয়া হয়েছে।
[৩] বিশ্বব্যাংকের গবেষণায় বলা হয়, বাংলাদেশের ম্যানুফ্যাকচারিংখাতের ৮৬ শতাংশ তৈরি পোশাক শিল্প। এইখাতে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ্যভাবে প্রায় ৪০ লাখ লোক কাজ করে। কিন্তু কোভিড ১৯ পরবর্তি বাংলাদেশের এইখাত বর্তমান অবস্থায় থাকবে না। তাকে আন্তর্জাতিক ও আভন্ত্যরিণ বাজারেও বিভিন্ন সমস্যার মুখে পড়তে হবে। এই সমস্যা কাটাতে বিশ্বব্যাংক ৩ টি পরামর্শ দিয়েছে। এ ৩টি হলো, দক্ষতা বৃদ্ধি করতে হবে ম্যানেজার ও শ্রমিকদের দ্বিতীয়ত আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে যোগাযোগ বৃদ্ধি করতে হবে । তৃতীয়ত কারখানাগুলোকে আরো উদ্ভাবন ও টেকনোলজিক্যাল উন্নতি করতে হবে।
[৪] রিপোর্ট বলা হয়, দেশের বেশির ভাগ শিল্পমালিকরা মনে করে তাদের কারখানায় যে ধরনের উন্নতি হয়েছে তা যথেষ্ট। আর দরকার নেই। আবার অনেকে জানেনই না আগামী দিনে তাদের কারখানার জন্য কি করতে হবে। এই অবস্থা কটাতে না পারলে কারখানায় পণ্য উৎপাদনের খরচ বৃদ্ধি পাবে। আগামী দিনে বিশ্বের পোশাক বাজার ও অন্যান্য শিল্প বাজার অনেক বেশি প্রতিযোগীতামূলক হয়ে যাবে। বেশি মূল্যের পন্য ক্রয় করা থেকে বিরত থাকবে ক্রেতারা। বাংলাদেশ রপ্তানি পণ্যের বাজার হারাবে। প্রতিযোগী বিভিন্ন দেশ বিশেষ করে ভিয়েতনাম, কম্বোডিয়া এমনকি আফ্রিকার কিছু দেশও বাংলাদেশ থেকে এগিয়ে যেতে পারে।
[৫] রিপোর্টে আরো বলা হয়, দেশের ম্যানুফ্যাকচারিং খাতের ৪০ শতাংশ এখনো হাতে লেখা ম্যানেজম্যান্ট ও এডমিনিস্ট্রেশনের উপর নির্ভরশীল।পণ্যের এক তৃতীয়াংশ কোয়ালিটি কন্ট্রোল করা হয় ম্যানুয়াল পদ্ধতিতে বা হাতের সাহায্যে। এই অবস্থার পরিবর্তন করতে হবে দ্রুত। বিশেষ করে রপ্তানিমুখী শিল্পের জন্য এটি করতে হবে এখনই। দেশের কারখানাকে সম্পূর্ণ ডিজিটালাইজেশনে যেতে হবে। জ্বালানি সাশ্রয়ি মেশিন নিয়ে আসতে হবে। বর্তমানে যেসব কারখানা গ্যাস নির্ভর তাদের পর্যায়ক্রমে গ্যাস নির্ভরতা থেকে বেড় হয়ে আসতে হবে। কারখানায় উৎপাদনশীলতা বাড়াতে প্রয়োজনে প্রণোদনার ব্যবস্থা রাখতে হবে। তাতে পন্য উৎপাদনে খরচ কমবে। যা দিয়ে আগামীতে বাংলাদেশর পোশাক শিল্প বৈশ্বিক প্রতিযোগীতায় টিকে থাকবে।